পানি পানের সপ্ত অভ্যাস
পানি পানের সপ্ত অভ্যাস

পানি পানের সপ্ত অভ্যাস কি?

রহস্যময় এই ভ্রহ্মাণ্ডের কতটুকুই আমরা জানতে পেরেছি? বিজ্ঞান কতটা জানিয়েছে? ইতিহাস কতটা জানিয়েছে? আধ্যাত্মিকতা কতটা জানিয়েছে? দর্শন কতটা জানিয়েছে? এর ভেদ না খুঁজে এই জানা-অজানার কথাগুলো আরেকবার জানার জন্যই এই ‘কে কি কেনো?’

দৈনিক পানি পানের সপ্ত অভ্যাস:
প্রাচীন ভারতের মুনি-ঋষিরা হাজার হাজার বছর আগে ভারতবর্ষের পরিবেশ-প্রকৃতি-মানুষকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে আত্মিক জ্ঞানের মাধ্যমে জীবনধারণের-জীবনযাপনের এক অনন্য জ্ঞান লিপিবদ্ধ করে রেখে গেছেন। যা এ অঞ্চলের মানুষের খাদ্যাভাস-জীবনধারা-চিন্তাধারাকে মাথায় রেখে করা হয়েছে। এই আর্য়ুবেদ জ্ঞান ভারতবর্ষের মানুষের জন্য অনন্য এক দান।

‘মানুষ যা খায় মানুষ তাই হয়’ এই চিন্তাচেতনার ভিত্তিতে রচিত এই সূত্রাবলীতে ধাপে ধাপে বলা হয়েছে কি খেতে হবে, কখন খেতে হবে, কোন ঋতুতে খেতে হবে, কোন বয়সে কি খেতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। কোন কোন নিয়ম মানলে সুস্থ্য থাকা যাবে, কোন কোন খাবার কোন কোন সময় বর্জন করলে বা গ্রহণ করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। মোট কথা জীবনধারণের জন্য কি কি করতে হবে তার বিস্তারিত জ্ঞান বর্ণন করা হয়েছে।

আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্র যেমন অল্প কিছু মানুষের উপর গবেষণা করে প্রতিষেধকের ছাড়পত্র দেয় অত সহজে সাধুগুরু-মুনিঋষিরা তা করেন কি। অসংখ্যবার অসংখ্যভাবে পরীক্ষানিরিক্ষা করে এই আবহাওয়ার উপযোগী এক খাদ্যাভাসের সূত্র দিয়ে গেছেন। জীবনযাপনের এক অনন্য রীতি দিয়ে গেছেন। যা মেনে চললে মানুষ অনেক রোগবালাই থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারে।

দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে সহজ ও সুস্থ দেহে-মনে মানুষ দীঘায়ু হতে পারবে তা বলা হয়েছে। আধুনিক প্রকৃতিক বিজ্ঞানও এখন ভারতীয় মুণিঋষিদের এই জ্ঞানকে সমীহ করেন। তবে তারা সমীহ করলেই তা যৌক্তিক এমন কোনো কথা নেই। এই অঞ্চলের মানুষের আদি জীবনধারা ও তাদের রোগহীন দীর্ঘজীবন দেখলেই তা পরিলক্ষিত হয়। 

প্রাচীন ভারতের আয়ুর্বেদ জ্ঞান যাদের হাত ধরে সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত হয়েছে তাদের মধ্যে চরক ঋষির নাম বেশি প্রচলিত। আত্রেয়, ভরদ্বাজ, অশ্বিনীকুমার, অগ্নিবেশ প্রমুখ মহান চিকিৎসকের নামও বিভিন্ন শাস্ত্রে পাওয়া যায়। তবে সেই সব বিস্তৃত আলোচনায় না যেয়ে সেই প্রাচীন জ্ঞান থেকে আজ পানি পানের সপ্ত অভ্যাসের কথা উল্লেখ করা হলো। যা মেনে চললে অনেক রোগবালাই থেকে নিজেকে সুস্থ্য রাখা সম্ভব। তবে আর দেরি না করে আসুন জেনে নেই কি সে অভ্যাস-  

১. সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে মুখ না ধুয়েই উচ্চতা অনুযায়ী পানি পান করতে হবে।

২. খাওয়ার কমপক্ষে আধঘণ্টা বা পৌনে একঘণ্টা আগে পানি পান হবে।

৩. খাওয়ার মাঝে বা পরে পানি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ভোজনের কমপক্ষে আধঘণ্টা বা পৌনে একঘণ্টা পরে পানি পান করতে হবে। 

৪. ঢোক গিলে গিলে ধীরে ধীরে বসে পানি পান করতে হবে।

৫. উচ্চতা অনুযায়ী দৈনিক কমপক্ষে ২ থেকে ৪ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।

৬. ঠাণ্ডা পানি পান পরিত্যাগ করতে হবে। তবে মাটি বা পাথরের পাত্রে রেখে শীতল পানি পান করা যাবে।

৭. সকল প্রকার বোতলজাত বা প্যাকেটজাত কোমল পাণীয় পরিত্যাগ করতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!